তিন মহারথীর কারনে স্থবির রাজউক জোন ৩/২ এর কর্মকাণ্ড।
Shafiul
প্রতিবেদন প্রকাশ:
১২ মার্চ ২০২৫ | সময়ঃ ০৯:৫১
google news,opera news
অপরাধ সূত্র :
আবুল বাশার :
রাজউক জোন-৩ এর ১ অঞ্চলটি পরিবর্তন হয়ে জোন ৩ এর উপ-জোন ২ হওয়ার পর থেকে এই অঞ্চলটি তিন জন কর্মকর্তার নিকট জিম্মি হয়ে পরেছে ফলে এই অঞ্চলে কেবল মাত্র নোটিশ বানিজ্যের হোলি খেলায় মত্ত মহারথীখ্যাত সহকারী অথরাইজড অফিসার মামুন, প্রধান ইমারত পরিদর্শক জয়নাল আবেদিন ও ইমারত পরিদর্শক সোলাইমান হোসেন।দেশের বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকা ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় এদের নিয়ে সংবাদ প্রচারের পরেও থেমে থাকেনি এই সিন্ডিকেট।
মামুন, সোলাইমানের কর্মপরিকল্পনায় চলেন অথোরাইজড অফিসার শেগুপ্তা শারমিন আশরাফ এমন খবর রাজউকে প্রচার হয়ে আছে বলে খবর পাওয়ায় সাপ্তাহিক অপরাধ সূত্র পত্রিকার অনুসন্ধানী প্রতিবেদক টীম দীর্ঘ অনুসন্ধান শেষে জানতে পারেন, জোন ৩ এর ২ উপ-জোনের অথরাইজড অফিসার শেগুপ্তা শারমিন আশরাফ দেশ-বিদেশে ট্রেনিং ও তাঁর মা দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকায় পারিবারিক কাজে ব্যস্ত থাকার সুযোগে আলোচিত ৩ মহারথী একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলে উপ-জোন ২ এর বিভিন্ন এলাকার নির্মাণাধীন ভবন সমুহে ইমারত পরিদর্শক সোলাইমান হোসেন পরিদর্শন করে নির্মাণাধীন ভবন মালিক-ডেভলপারদের অফিসে ডেকে এনে নোটিশ সহ ভবনগুলো উচ্ছেদ অভিযানে ও মোবাইল কোর্ট এর মাধ্যমে উচ্ছেদ করা বা ভেঙ্গে দেয়ার ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রধান ইমারত পরিদর্শক জয়নাল আবেদিন ও সহকারী অথরাইজড অফিসার মামুন এর মোকাবিলায় বিপুল পরিমাণ অর্থ উৎকোচ হিসেবে গ্রহণ করেন, যাহা বর্তমানেও চলমান রয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানতে পারা যায়, রাজউকের ইমারত পরিদর্শক, প্রধান ইমারত পরিদর্শক ও সহকারী অথোরাইজ অফিসারদের ঘুষ বাণিজ্যের অপকৌশল এখন নোটিশ বাণিজ্যে। নির্মাণাধীন ভবন মালিকদেরকে রাজউকের নোটিশের মাধ্যমে ডেকে এনে ঘুষ বাণিজ্যের নিয়মিত মাধ্যম হিসেবে ব্যাবহার করছেন রাজউকের নোটিশকে। ভবন নির্মান বিধিমালার ব্যাতিক্রম দেখিয়ে ভবন নির্মাণাধীন একক মালিক কিংবা ডেভেলপার কোম্পানির মালিকদেরকে রাজউকের নোটিশের মাধ্যমে অফিসে ডেকে এনে অনিয়মকে মৌখিক নিয়মের ছাড়পত্র দেবার আশ্বাস দিয়ে ঘুষ লেনদেন যেন এখন নিয়মে পরিনত হয়ে দাড়িয়েছে।
সহকারী অথরাইজড অফিসার মামুন ও প্রধান ইমারত পরিদর্শক জয়নাল আবেদিন মোটা অংকের টাকার অবৈধ লেনদেন ছাড়া কোনো বৈধ ফাইলেও সই করেন না বলে অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে।
তদন্তে এমনসব অসাধু কর্মকর্তাদেরকে নিয়ে সিন্ডিকেট তৈরীর এক নীলনকশা বাস্তবায়নে রাজউক জোন-৩ এর উপ-জোন ২ এর ইমারত পরিদর্শক সোলাইমান হোসেন এর নাম উঠে এসেছে। সিন্ডিকেটকে জোরদার করার জন্য তৈরী করা হয়েছে একাধিক সদস্য বিশিষ্ট শক্তিশালী সিন্ডিকেট আর এই সিন্ডিকেটের মূল চালিকা শক্তির হাতিয়ারই হচ্ছে সহকারী অথোরাইজ অফিসার মামুন, প্রধান ইমারত পরিদর্শক জয়নাল আবেদিন ও ইমারত পরিদর্শক সোলাইমান। মামুন সোলাইমানকে দিয়েই তিনি তার অবৈধ আয়ের পথকে সুগম করেছেন। তারই বহিঃপ্রকাশ ঘটে গত শনিবার ৮ই মার্চ'২৫ অফিস ছুটির দিনে মিরপুর সেকশন ১, সেকশন ২ ও সেকশন ৬ সহ বিভিন্ন এলাকার সাইটগুলো ভিজিট করা এবং রাজউকের ভবন নির্মানের বিধিমালার ত্রুটি বিচ্যুতির কারনে পূর্বের করা নোটিশকৃত ভবন গুলোতে ঘুরে ঘুরে ভবন মালিকদের সাথে আলাপ পরিচয় সেরে আসেন তিন মহারথী। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এর তদন্ত ছাড়া, কোনো সহকারী অথোরাইজড অফিসারের জন্য আইনের পরিপন্থী ভবন পরিদর্শন, বলে মনে করেন ঐ সব ভবন মালিকেরা। কারো কারো অভিযোগ আবার অবৈধ লেনদেনেরও ইঙ্গিত বহন করে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা বলেন, শেগুপ্তা শারমিন একজন সিনিয়র অফিসার তাঁর সরলতার সুযোগে ৩ মহারথীর এমন কাজকর্ম আমাদেরকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলে দেয়। এ-ই ৩ মহারথীর কাছে জিম্মি খোদ জোন ৩ এর পরিচালক সালেহ আহমেদ জাকারিয়া ও উপ-জোন ২ এর অথরাইজড অফিসার শেগুপ্তা শারমিন আশরাফ। এমনও অভিযোগ পাওয়া যায় এঁরা এতটাই ধৃষ্টতা দেখান যে, পরিচালক ও অথরাইজড অফিসারের অধিকাংশ আদেশ নির্দেশ মেনে চলেন না এমনকি এ-ই ৩ মহারথীদের নিকট থেকে কোন প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতাও পান না উর্ধতন কর্মকর্তারা।
মিরপুর ২ নং সেকশনের এ, বি, জি১, জি ও এইচ ব্লক সহ ৬ নং সেকশনের ডি ও সি ব্লকের কয়েকটি ভবন নির্মাণকারী নাম ও ঠিকানা প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ঈদের পূর্বেই বিপুল অংকের পরিমাণ অর্থ ঈদ সালামী হিসেবে ইমারত পরিদর্শক সোলাইমান হোসেনকে পৌঁছে দিতে হবে রাজউক কর্মকর্তাদের জন্য, আর তা না হলে ঈদের পরে উচ্ছেদ এর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে হুমকি প্রদান করে যান।
ইমারত পরিদর্শক সোলাইমান হোসেন এর নিকট ভবন মালিকদের কাছে ঈদ সালামী ও উচ্ছেদের ভয় দেখিয়ে উৎকোচ গ্রহণ করার বিষয়ে জানতে তাহার কক্ষে গেলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পেয়েই তাঁর কক্ষে তালা লাগিয়ে কেটে পরেন।
প্রধান ইমারত পরিদর্শক জয়নাল আবেদিনের নিকট এহেন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কেন আপনারা আমাদের পিছনে লাগতে আসেন শুধু শুধু, আমরা উর্ধতন কর্মকর্তার অনুমতি ছাড়া কোন বক্তব্য দিতে পারি না।
এই সিন্ডিকেটের প্রধান সহকারী অথরাইজড অফিসার মামুন এর নিকট এই ঘুষ বানিজ্য নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার উর্ধতন কর্মকর্তার অনুমতি না নিয়ে কোন বক্তব্য প্রদান করতে পারবো না বলে তাঁর কক্ষ থেকে বেড় হয়ে সটকে পরেন।
রাজউক জোন ৩ এর উপ-জোন ২ এর অথরাইজড অফিসার শেগুপ্তা শারমিন আশরাফ এর নিকট আলোচিত ৩ মহারথীদের কর্মকাণ্ড নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি এ-ই জোনে যোগদানের অল্প কিছু দিনের মধ্যে হেড অফিসের বিভিন্ন ট্রেনিং এ ছিলাম এবং জাপানে ট্রেনিং এর জন্য যাই। দেশে ফিরে আসার পর আমার 'মা' গুরুতর অসুস্থ হয়ে পরেন এবং দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পরে গত মাসে আমার 'মা' মারা গিয়েছেন। অসুস্থতার কারনে আমি কিছু সময় ছুটিতে ছিলাম বিভিন্ন ধাপে, তাছাড়া রাজউক থেকে আমাকে কোন গাড়ি বরাদ্দ না করার কারনে মহাখালী আঞ্চলিক অফিস ও হেড অফিসে যাতায়াতের সমস্যার কারনে অফিসের দায়িত্ব পালনে কিছু সমস্যার সৃষ্টি হয়, আর এই সুযোগে এরা এহেন কর্মকাণ্ড চালিয়ে থাকতে পারে। আমি এদের আচরণ পর্যবেক্ষণ করছি। আমার নিকট সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আসলে আমি যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহনে কালবিলম্ব করবো না।
সোলাইমান, জয়নাল ও মামুনের মত কর্মকর্তাদের কারনে ক্ষুন্ন হচ্ছে রাজউকের ভাবমূর্তি। অচিরেই এদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় বিভাগীয় তদন্ত করে কার্যকর শাস্তি মূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে রাজউক দ্রুতই দূর্নীতির আখরায় পরিগণিত হবে বলে মত প্রকাশ করেন দেশের সুশীল সমাজের বিশিষ্ট ব্যাক্তিগণ।